স্বাস্থ্য ডেস্ক : বর্তমানে আমাদের জীবনযাপনের ধরন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন। সুখবর হচ্ছে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কারণে এর সঠিক চিকিৎসা মিলছে। তবে এই মরণঘাতি রোগ থেকে বাঁচতে চাইলে পরিবর্তন আনতে হবে জীবনযাপন ও খাবারে। এমনকিছু খাবার নিয়মিত খেতে হবে যেগুলো কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি।তবে তার আগে চলুন জেনে নেয়া যাক :-
রসুন
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় রসুনের অন্যতম প্রধান উপকারিতা হচ্ছে এটি শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে কলোন, স্টোমাক, ইন্টেস্টিনাল, এবং প্রস্টেট ক্যান্সার। রসুন এমন একটি উপকারী ও শক্তিশালী খাদ্য যার আন্টি-বাক্টোরিয়াল ধর্ম শরীরে ক্যান্সার কোষের ছড়িয়ে পড়াকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
হলুদ
সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হলো হলুদ। এটিতে কারকিউমিন বেশি মাত্রায় থাকার কারণে ক্যান্সার কোষ বিশেষ করে ফুসফুস এবং স্কিন ক্যান্সার এর থেকে দূরে রাখে। ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সাহায্য করে হলুদ। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গুণাবলী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
টমেটো
গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিতভাবে টমেটোর সস বানিয়ে খান তাদের প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে আসে। টমেটোতে আছে লাইকোপেন যা একটি শক্তিশালি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
সবুজ শাক-সবজি
পালং শাক, কেইল, কলার্ড গ্রীন, রোমেইন ও আরুগুলা লেটুস, ওয়াটার ক্রেস (হেলেঞ্চা শাক) সহ দেশীয় সবুজ শাক-পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলগুলো, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এনজাইম। এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়াও আছে গ্লুকোসাইনোলেটস, এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিভাইরাল উপাদান এবং নিষ্ক্রিয় কার্সিনোজেনস। যা টিউমার সৃষ্টি রোধ, ক্যান্সার কোষ ধ্বংস ও ক্যান্সার স্থানান্তরণে বাধা প্রদান করে। কাজেই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাক-পাতা থাকা আবশ্যকীয়।
মাছ
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মাছের ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড -এন্টিইনফ্ল্যামেটরি, এন্টিটিউমার ও এন্টিক্যান্সার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষাক্ততা কমাতে ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ফলদায়ক ভূমিকা রাখে। তৈলাক্ত মাছ খাদ্য তালিকায় রাখুন।
গ্রীন টি
ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া। গ্রীন টিতে আছে পলিফেনোলিক কম্পাউন্ড, ক্যাটেচিন, গ্যালোক্যাটেচিন এবং ইজিসিজি (এন্টিঅক্সিডেন্ট)। যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, টিউমার বৃদ্ধি রোধ ও ক্যান্সার স্থানান্তরণ অর্থাৎ মেটাস্ট্যাসিস রুখে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন গ্রীন টি পান করুন।
মাশরুম
উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন মাশরুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাশরুম রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ব্রকোলি
সবুজ রঙের এই সবজি ইন্ডলে থ্রি কারবিনোল সমৃদ্ধ। এটি এস্ট্রোজেন মেটাবোলিজমের মাত্রা কমায়, সেইসঙ্গে রক্ষা করে ব্রেস্ট ক্যান্সার জাতীয় টিউমার থেকে। এটি মুক্তি দিতে পারে হরমোন সম্পর্কিত ক্যান্সার থেকেও। তাই নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখুন ব্রকোলি।
বাদাম ও বীজসমূহ
চিনাবাদাম ভিটামিন-ই এর সব থেকে ভালো উৎস। ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ চিনাবাদাম কোলন, ফুসফুস, যকৃত এবং অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। সকালে কিংবা বিকালের নাস্তায় চিনাবাদাম রাখুন।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ