বাংলার গেজেট প্রতিবেদক : পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের জন্য জাতির পিতার কন্যার সবচেয়ে বড় উপহার। পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এই সেতু আমাদের আত্মপ্রত্যয়ের জায়গা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম আজ বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘খুলনার উন্নয়ন সম্ভাবনা-প্রেক্ষিত পদ্মা সেতু’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে যে কর্মোদ্যম শুরু হয়েছে তা ভিশন-২০৪১ অর্জনে মাইলফলক। আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস করতে হলে পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রতিটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। একই সাথে বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে। প্রধান অতিথি মানব সম্পদ উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের কারিগরী দক্ষতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে বলেন।
খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শরীফ আতিকুজ্জামান। স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. তরুণ কান্তি বোস। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক এসএম নাজিমউদ্দিন পায়েল এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. খান মেহেদী হাসান। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলক কুমার মন্ডল।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা পদ্মা সেতুর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে কৃষিবান্ধব অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা ফরিদপুরের ভাঙ্গা-মোংলা রাস্তা চারলেন যুক্ত করাসহ টেকসই উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও ইকো-টুরিজমে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
এর আগে সিনিয়র সচিব জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নবনির্মিত গেট উদ্বোধন এবং ৬১ জন চর্মকারকে কাজের সুবির্ধাথে ছাতা হস্তান্তর ও দু:স্থদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করেন।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ