ডিসি ও এসপি অফিসের অদূরে দলিল লেখক জাকিরকে খুনের তদন্ত নয় বছরেও শেষ হয়নি

0
582

বাংলার গেজেট প্রতিবেদক : ২০১২ সালের ২০ মে সন্ধ্যায় একদল ঘাতক বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি’র কেন্দ্রীয় নেতা খান মোঃ জাকির হোসেনকে গুলি করে খুন করেছিল। খুলনার ডিসি ও এসপি অফিসের নিকটতম দূরত্বের কেসিসি মার্কেট অভ্যন্তরে হত্যাকা-ের পর আততায়ীরা করেয়কটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। গত নয় বছরেও পুলিশ মামলার তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি। পরিকল্পনাকারী ও অর্থ যোগানদাতারা অন্ধকারেই থেকে গেছে।
এদিকে, খুলনার চাঞ্চল্যকর ও লোহর্ষক মামলা নিষ্পত্তিকরণ সংক্রান্তে জেলা মনিটরিং কমিটির তালিকায় আটটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সমস্যা সমূহ এবং নিরসনে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে ওই কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়ে থাকে। জাকির হত্যা মামলাটি সেই তালিকায় নেই। মামলাটি ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগকারী আকুতি জানিয়েছেন।
থানা-পুলিশ, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি’র কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে মামলার তদন্ত করেন। সর্বশেষ সিআইডি ইন্সপেক্টর মীর আতাহার আলী সকল আসামিকে মামলার দায় হতে অব্যাহতির জন্য আদালতে আবেদন করেন। তখন ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে সেই পুলিশ রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে না-রাজি দরখাস্ত দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এর উপর দায়িত্ব অর্পণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২০২০ সালের শেষ দিক থেকে তদন্তের দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মকর্তা বলছেন, হত্যাকা-ের পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাস্টার মাই- হিসেবে সন্দেহভাজন রায়েরমহল বাউন্ডারি রোডের বাসিন্দা বাহাউদ্দীন খন্দকারকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। এরপর তিনি এবং তার সহযোগী সাদিকুর রহমান রনি পুলিশি গ্রেফতার ও কোনো প্রকার হয়রানি না করা সংক্রান্তে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। তাদের আবেদনের স্বপক্ষে আদালতের দেয়া আদেশের মেয়াদ বার-বার বাড়তে থাকে। গত ২০১৯ সালের শেষে ওই মেয়াদ আর বাড়েনি। এরপর ফরিয়াদী পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে রিটটি বাতিল করার আবেদন করেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে করেনা দুর্যোগ শুরুর আগে আবেদনের উপর দু’বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি সংক্রান্তে চুড়ান্ত আদেশ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এজাহারে নাম না থাকা সত্বেও প্রধান সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়েছেন। সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন খন্দকার এবং বয়রা ফারুকিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাদিকুর রহমান রনিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন সম্ভব হবে।
সূত্রমতে, হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে রেজাউল করিম বাবলু (৫৫), শেখ আলমগীর হোসেন (৩৫), শেখ আজিম উদ্দীন (৩৬), মোঃ জামির হোসেন ওরফে জামির শেখ (৪৩), জহিরুল ইসলাম ওরফে লাল্টু (৩৬), শেখ হাসান (৪৮) এবং মোঃ ফারুক হোসেন গ্রেফতার হয়। তাদের মধ্যে লাল্টু জামিনে মুক্তির পর পালিয়েছে। জামিনে থাকা অন্য ছয় আসামিকে আদালতের আদেশে তদন্ত কর্মকর্তা প্রসিকিউশন অফিসে বসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাদের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
কেসিসি মার্কেটস্থ চেম্বারের তালাবন্ধ করে জাকির হোসেন বাড়ী ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হেলমেট পরিহিত দু’ আততায়ী সেখানে এসে তার নাম জিজ্ঞাসা করে। নাম বলা মাত্রই তাদের একজন পিস্তল বের করে তাকে গুলি করে। ঘটায়- বোমা বিষ্ফোরন। দু’-তিনটি মোটর সাইকেলে ঘাতক দলের অন্য সদস্যরা জেলা পরিষদের সামনের সড়কে অপেক্ষা করছিল। তারা ওই দু’জনকে নিয়ে অকুস্থল ত্যাগ করে। যাবার আগে ওই রাস্তায় তারা আরও একটি বোমা ফাটায়। মামলার নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ২২ মে নিহতের স্ত্রী জামিলা বেগম খুলনা সদর থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই উপ-পরিদর্শক পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, বিভিন্ন কারণে জাকিরের সাথে প্রভাবশালী মহলের শত্রুতা তৈরি হয়। এর জের ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ভাড়াটে পেশাদার খুনিদের দিয়ে ওই খুন সংঘটিত হয়। ইতিমধ্যে আট জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রকাশ্যে ও গোপনে নিবিড়ভাবে তদন্ত কাজ চলছে। সন্দেহভাজন অন্যদের গ্রেফতার ও হত্যাকা-ে ব্যবহার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ