ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ওজন বাড়ানোর জন্য খুলনার‌ ডুমুরিয়ার একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিরিঞ্জ দিয়ে চিংড়িতে জেলিসহ বিভিন্ন অপদ্রব্য পুশ করছে। সম্প্রতি এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি হলে এ দেশের চিংড়ির সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযান চালিয়েও পুশ প্রবণতা রোধ করতে পারছে না প্রশাসন। আজ সোমবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার সময় ডুমুরিয়া শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে অপদ্রব্য পুশরোধে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীর আসিফ রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‌খুলনা‌ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল, সহকারী কমিশনার ভূমি ‌ মামুনুর রশীদ, ডুমুরিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া, ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম,সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ূন কবির বুলু,খর্নিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শেখ দিদার হোসেন, শোভনা ইউনিয়নের সুরঞ্জিত বৈদ্য, গুটুদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তুহিন মৎস্য আড়ত ব্যাবসায়ী এস এম মেজবাহ আলম টুটুল, সাংবাদিক জি এমন আব্দুস সালাম,সুজিত মল্লিক, অনুষ্ঠিত সার্বিক সঞ্চালনা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খুলনা ডুমুরিয়া বাজার এবং চুকনগর, মালতিয়া, এলাকার বেশ কিছু ডিপোতে সন্ধ্যায় গোপনে সিরিঞ্জ দিয়ে চিংড়িতে জেলি, আটা মেশানো পানি প্রভৃতি পুশ করা হয়। ঘের থেকে চিংড়ি মাছ ধরার পর চাষিরা তা এসব ডিপোতে বিক্রি করে থাকেন। সম্প্রতি নগরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম পর্যায়েও বেশি লাভের আশায় চিংড়ির ওজন বাড়ানোর জন্য এভাবে অপদ্রব্য পুশ করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা জেনেশুনেই এই চিংড়ি কিনে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া চিংড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো পুশ করা চিংড়ি না কিনলে কেউ পুশ করার সাহস পেত না। কিন্তু কারখানাগুলো তাদের রপ্তানির চাহিদা পূরণ করতে জেনেশুনেই পুশ করা চিংড়ি কিনে থাকে। ফলে এ প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে চিংড়ির উৎপাদন কম। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। তাই রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন চিংড়ি ডিপো মালিক বলেন, হাতেগোনা কিছু ডিপো মালিক এ রকম করে থাকেন। চিংড়িশিল্প টিকিয়ে রাখতে এ প্রবণতা দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।
মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে চলতি বছর জেলি পুশ করা এক হাজার ৫০০ কেজি চিংড়ি জব্দ করে। ১২৫টি অভিযানে ডিপো মালিকদের জরিমানা করা হয় ১০ লাখ দুই হাজার টাকা। এসব অভিযানের পরও থেমে নেই চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ; বরং সম্প্রতি তা আরও বেড়েছে।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও কোস্টগার্ড রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে চিংড়িতে জেলি পুশ করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়া তিনজনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৮ অক্টোবর র‌্যাব সদস্যরা ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর এলাকা থেকে জেলি পুশ করা ৫০০ কেজি চিংড়ি জব্দ করেন। এ সময় দুটি ডিপোর মালিককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাংলার গেজেট/এম এইচ