বাংলার গেজেট প্রতিবেদক : ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের এমডি রফিকুল আমীনের ১২ বছর এবং প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল হারুন-অর-রশিদের চার বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে তিন আসামির উপস্থিতিতে ডেসটিনির অর্থ আত্মসাত ও অর্থ পাচার মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম।
রায়ে, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনের ১২ বছর এবং প্রেসিডেন্ট হারুন-অর-রশিদের চার বছর, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকে ১০ বছর এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া সুপ্রিমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালে দুটি মামলা করা হয়। ২০১৪ সালের ৪ঠা মে একটি মামলায় রফিকুল আমীনসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে এবং অপর মামলায় ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তাদের মধ্যে রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন কারাগারে এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন অর রশিদ জামিনে রয়েছেন। পাঁচজন জামিন এবং ৩৯ আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রোজেক্টের নামে ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে। ওই অর্থ আত্মসাতের ফলে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।
ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন প্রোজেক্টের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা করা হয় আত্মসাৎ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাড়ে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ডেসটিনি গ্রুপের নামে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল নাম সর্বস্ব। আসামিরা প্রথমে প্রোজেক্টের টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করতেন। তারপর বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে তা স্থানান্তর করা হতো। দুদক ৩৪টি ব্যাংকে এমন ৭২২টি হিসাবের সন্ধান পায়, যেগুলো পরে জব্দ করা হয়।
দুই মামলায় মোট ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৬ সালের ২৪শে আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শেষ হয়। গেল ২৭শে মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ