বাংলার গেজেট প্রতিবেদক : বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা খান মোঃ জাকির হোসেন হত্যা মামলার আসামি শেখ নজরুল ইসলাম ওরফে নজু (৩৮) কে দু’ দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার (১৩ মে) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এরপর মহানগর হাকিম মোঃ আল আমীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পিবিআই উপ-পরিদর্শক পলাশ চন্দ্র রায় দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। খুনের সাথে জড়িত কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম-ঠিকানা হাতে এসেছে। তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
আসামি নজু এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত মোঃ বাহাউদ্দিন খন্দকারের দেহরক্ষী ও বিশ্বস্ত সহচর বলে মন্তব্য করে (আইও) বলেন, গত ১০ মে রাতে বয়রা মৌ মার্কেট এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত অর্থযোগানদাতা ও পরিকল্পনাকারীর বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
গত ২০১২ সালের ২০ মে সন্ধ্যায় খুলনার ডিসি ও এসপি অফিসের অদূরে কেসিসি মার্কেটস্থ চেম্বারের তালাবন্ধ করে দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব জাকির বাড়ী ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হেলমেট পরিহিত দু’ আততায়ী সেখানে এসে তার নাম জিজ্ঞাসা করে। নাম বলা মাত্রই তাদের একজন পিস্তল বের করে তাকে গুলি করে। ঘটায়- বোমা বিষ্ফোরন। দু’-তিনটি মোটর সাইকেলে ঘাতক দলের অন্য সদস্যরা জেলা পরিষদের সামনের সড়কে অপেক্ষা করছিল। তারা ওই দু’জনকে নিয়ে অকুস্থল ত্যাগ করে। যাবার আগে ওই রাস্তায় তারা আরও একটি বোমা ফাটায়। মামলার নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ২২ মে নিহতের স্ত্রী জামিলা বেগম অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে গত ৭ মার্চ রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একটি টিম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও অর্থযোগানদাতা হিসেবে সন্দেহভাজন বাহাউদ্দিন খন্দকার (৪৮) কে সোনাডাঙ্গা থানাধীন বয়রা এলাকার মৌ মার্কেটের দ্বিতীয় তলা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছিল। সে হরিনটানা থানা এলাকার রায়েরমহল বাউন্ডারি রোডের বাসিন্দা।  
তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পিবিআই খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বাহাউদ্দিন এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে জাকিরকে খুন করায়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পলাশ বলেন, মামলার মোট ১০ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্থযোগানদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বাহাউদ্দিনসহ নয় আসামি আদালতের আদেশে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ