মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : উপকূল রক্ষায় দূর্যোগ সহনশীল পরিবেশবান্ধব-জনবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন ও জাতীয় বাজেটে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। সুপেয় খাবার পানি সরবরাহ, পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মান, গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনশীল গৃহ প্রদাণ করতে হবে। বনজীবি মৎস্যজীবি, জেলে-বাওয়ালী-মৌয়ালীদের জীবিকা রক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদাণ করতে হবে। পদ্মা সেতুর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি পণ্য সরবরাহ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে এর সুফল খোদ কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আজ সোমবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন বাগেরহাট জেলা কমিটির আয়োজনে ”বাজেট পর্যালোচনা, পদ্মা সেতুর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ নাগরিক সংলাপে সভাপতিত্ব ও সংলাপ সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন বাগেরহাট জেলা কমিটির সভাপতি মো. নূর আলম শেখ। সংলাপে ধারণাপত্র পাঠ করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান। সংলাপে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন, বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আহাদ উদ্দিন হায়দার, সিপিবি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফররুখ হাসান জুয়েল, ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান বাগেরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আকতারুজ্জামান বাচ্চু, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্য আহসানুল করিম, বাগেরহাট পিসি কলেজের সাবেক ভিপি আজমল হোসেন, ইয়ামিন আলী, বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন মোল্লা, নারী নেত্রী এ্যাড. লুনা সিদ্দিকী, রূপান্তরের আলমগীর হোসেন মিরু, দি হাঙ্গার প্রোজেক্ট’র মো. হাফিজুর রহমান, বাজেট কর্মী-নদী কর্মী হাছিব সরদার ও ইয়ুথ লিডার সাইদ খান। সভাপতির বক্তৃতায় গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের বাগেরহাট জেলা কমিটির সভাপতি মো. নূর আলম শেখ বলেন, সরকারকে প্রগেসিভ হারে অধিক কর আদায়ে মনযোগ দিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ছেঁটে ফেলতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আকার ও পরিধি বাড়াতে হবে। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চলমান উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট প্রণয়নের কেন্দ্রিভূত প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে হবে। সংলাপে অপর বক্তারা আরো বলেন, নদী বিধৌত পলিভূমি দ্বারা গঠিত বৃহত্তম সক্রিয় বদ্বীপের একটি বৃহত্তর অংশ হচ্ছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর উর্বরতম অঞ্চল হওয়ায় বাংলাদেশকে গ্রীণ ডেল্টাও বলা হয়। তাই বাজেটে কৃষি জমি, সুন্দরবন, উপকূল ও পরিবেশ সুরক্ষায় বরাদ্দ দিতে হবে। জলবায়ু সহিষ্ণু বাজেট প্রনয়ন সময়ের দাবী। জীবাশ্ম জালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জালানি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সাগর-নদ-নদী-খাল-বিল-হাওড়-জলাশয়-বন-জঙ্গল-পাহাড় রক্ষায় টেকসই ও পরিবেশ এবং প্রকৃতিবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ