মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিক : মহিমান্বিত কদরের রাত রমজান মাসের শেষ দশকের বে-জোড় রাতে হওয়ার বিষয়টি ইতি পূর্বের আলোচনা থেকে প্রায় নিশ্চিত। যদিও এ বিষয়ে মুহাদ্দিসীন এবং ওলামাদের মধ্যে ৪৩টি মতামত রয়েছে। বিভিন্ন হাদীসের সমন্বয় করলে মাহে রমজানের শেষ দশকের কোন রাতকেই প্রাধান্য দেয়া যায় না। যে কারনে প্রথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ২১ থেকে ২৯ পর্যন্ত সবকটি বে-জোড় রাতেই শবে কদর মনে করে সমান তালে তারা ইবাদত করে থাকেন, তবে বিশেষ করে পাক ভারত উপমহাদেশে ২৭শে বে-জোড় রাত অন্যান্য বে-জোড় রাতের চেয়ে একটু গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করা হয় এবং মনে করা হয় মূলত: এ রাতেই মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন।
এর দ’টি কারন প্রথমত: “মহান আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী এ রাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা পবিত্র কুরআনের ৯৭ নং সূরায়ে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, “নিশ্চই আমি এ কুরআনকে লাইলাতুল কদরে নাযিল করেছি, আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হল- এমন একটি রাত যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।”
এ সূরায় আল্লাহ তায়ালা “লাইলাতু-আল-কদর” শব্দটি ৩ বার উল্লেখ করেছেন এবং এ আরবি শব্দটি ৩ বার উল্লেখ করেছেন এবং এ আরবি শব্দটি লিখতে শেষোক্ত লেখা অনুযায়ী ৯টি অক্ষর প্রয়োজন হয়েছে। ৯টি অক্ষর/বর্নকে ৩ দিয়ে গুণ দিলে ৯দ্ধ৩=২৭ হয় এ হিসেবে আমাদের দেশে ২৭শে রাতকে একটু গুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইবাদত করা হয়।
এ ছাড়া জির ইবনে হুবাইশ (রা:) এর একটি হাদিস বা মুসলিম শরীফে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, আমি ১ বার উবাই ইবনে কাব (রা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার ভাই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাতে ইবাদত করবে সে লাইলাতুল কদর লাভ করতে পারবে, তখন উবাই ইবনে কাব (রা:) বলেন যে, তিনিও জানেন যে, লাইলাতুল কদর রমজান মাসের শেষ দশকে, তার পরও যাতে মানুষ শুধু ঐ বে-জোড় ৫ রাত ইবাদত করে বসে না থাকে এজন্যই সারা বছর ইবাদত করার জন্য বলেছেন। তিনি আরও বরেন, বাস্তবিক পক্ষে লাইলাতুল কদর রমজানের ২৭ তারিখই, তখন তিনি বলেন যে, আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে, লাইলাতুল কদর ২৭ তারিখই হবে, তখন তিনি উত্তরে বলেন, মহানবি (সা:) লাইলাতুল কদরের কিছু নিদর্শন বা চিহ্ন বলেছেন, যেমন- যে রাতে লাইলাতুল কদর হবে তার পরের দিন সূর্য উদয়ের সময় আলোর কোন তীব্রতা থাকবে না খুব সুন্দর ও কোমল ভাবে সূর্যোদয় হবে, আমি পরীক্ষা করেছি যে, ২৭ তারিখের সূর্যোদয়ের সময় আলোর তীব্রতা ছিলনা, উল্লেখ্য সৌদী আরবের ২৭ তারিখ আমাদের ২৬ এবং আমাদের ২৭ তারিখ তাদের ২৮ এজন্য উভয় রাতেই ইবাদত করতে হবে বলে আমি মনে করি।
মহান আল্লাহ আমাদের লাইলাতুল কদরের নেকী হাজার মাসের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জন করার তাওফিক দান করুন। (আমিন!!!)
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, আহসান উল্লাহ কলেজ, খুলনা।