বাংলার গেজেট ডেস্ক : করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ সোমবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তার মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে ও আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনার টিকা প্রদর্শন করতে হবে। এ বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান।
রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে চাইলে ক্রেতাকে অবশ্যই করোনা টিকা সনদ দেখাতে হবে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে আমরা এমনিতেই খুব কষ্টে আছি। নতুন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি আমাদের আরও বিপদে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ক্রেতার কাছ থেকে টিকা সনদ দেখার কাজটি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ কীভাবে বাস্তবায়ন করবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রেস্তোরাঁ ব্যবসার ওপর খড়্গ নামার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আমরা সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য। কিন্তু আমরা সরকারের কাছে আবেদন করি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ব্যবসা করব। কিন্তু রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণে ক্রেতাকে টিকা সনদ দেখানোর শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের কাছে আমাদের আরজি, যাতে বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখানো হয়। কারণ, আমরা টিকার সনদ দেখতে গেলে গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। আমাদের রেস্তোরাঁ খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই তৃণমূলে, মানে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে। সেখানকার রেস্তোরাঁগুলোতে শ্রমজীবী মানুষ বসে খাওয়া–দাওয়া করেন। তাঁদের টিকার সনদ যাচাই করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শ্রমজীবী মানুষের টিকা সনদ যাচাই করে রেস্তোরাঁয় বসানো কঠিন হবে। তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করাটা সম্ভব নয়। পরিষ্কার করে বললে সেটি বাস্তবসম্মত নয়।

রেস্তোরাঁয় টিকা সনদ দেখানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। ধরুন, একটি পরিবারের তিনজন রেস্তোরাঁয় খেতে এলেন। তাঁদের দুজনের টিকা আছে। কিন্তু একজনের টিকা নেই। তখন আমি কি ওই একজনকে রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দেব না? শ্রমজীবী মানুষ যাঁরা সারাক্ষণ রাস্তায় থাকেন, তাঁরা কীভাবে টিকার সনদ সংরক্ষণ করবেন? দিন শেষে খড়্গটা আমাদের ওপর এসে পড়ছে। সরকার মশা মারতে কামান দাগায় আমাদের ওপর। এসব না করে সব রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হোক।
আমাদের মনে হয়, একটা তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টিকার সনদ দেখানোর বাধ্যবাধকতায় ফুডপান্ডা, পাঠাও ফুডসহ অন্য অনলাইনভিত্তিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে। এখন রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধ করতে পারলে তাদের ব্যবসা বাড়বে। এমনিতেই নানাভাবে আমাদের ব্যবসার অবস্থা শোচনীয়। নতুন বিধিনিষেধে রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিষয় নিয়ে আমরা সংগঠনের নেতারা নিজেরা আলোচনা করব। আগামী মঙ্গলবার আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে জরুরি সভা ডেকেছি। সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, যাঁদের জন্মনিবন্ধন আছে, তাঁদের টিকার আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবেও ঘোষণা দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রনের প্রাদুর্ভাবের পর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে ১১টি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।
আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। সূত্র : প্রথম আলো।
বাংলার গেজেট / এম এইচ