কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ ঈদুল আজহার জামাতের জন্য প্রস্তুত। ঈদ জামাতকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভা ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
আগামীকাল রোববার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদুল আজহার ১৯৫তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ।
ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভা শোলাকিয়ার জামাতকে সফল করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জামাতের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পরিদর্শন করেছেন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ।
মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রঙ করাসহ শোলাকিয়া ময়দানকে জামাতের উপযোগী করার কাজ শেষ হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে ওজুখানা এবং টয়লেট। চলছে শহরের শোভাবর্ধনের কাজও। দূর-দূরান্তের মুসুল্লিদের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল টিম।
নামাজের সময় দুই প্লাটুন বিজিবি, নয় শতাধিক পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোষাকে নজরদারি করবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়াও মাঠসহ প্রবেশ পথগুলোতে থাকছে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। সবমিলিয়ে শোলাকিয়া মাঠে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ।
জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ