শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা : বাংলাদেশের সুন্দরবনের কাঁকড়ার কদর বিদেশে বেড়েছে। চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় সুন্দরবন অঞ্চলের কাঁকড়ার চাহিদা বেড়েছে। গত পাঁচ মাসে প্রায় সাড়ে ২২ কোটি টাকার কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে।
দেশের বাইরে বেড়েছে সুন্দরবন অঞ্চলের কাঁকড়ার জনপ্রিয়তা। ফলে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হচ্ছে বেশি। গত পাঁচ মাসে ২৬ লাখ ৮১ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২২ কোটি টাকার কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে। চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় সুন্দরবন অঞ্চলের কাঁকড়ার চাহিদা বেড়েছে। রোগ-বালাই কম ও দাম বেশি পাওয়ার কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৩ উপজেলায় কাঁকড়ার চাষও বেড়েছে।
এদিকে, গত ছয় মাসে ১৮ দেশে ১৫ কোটি ৭ লাখ ৯১ হাজার ১৩৫ ডলার মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে।
কাঁকড়া চাষিরা জানান, তিন মাস সময়ের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা জাতের কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি যোগ্য হয়। শৈত্য প্রবাহ ও গ্রীষ্মের দাবদাহে কাঁকড়া মারা যায় না। প্রতি কেজি চিংড়ি প্রকারভেদে ৭০০টাকা থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কাঁকড়া ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফা হওয়ায় সুন্দরবন সংলগ্ন বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, শরণখোলা, শ্যামনগর, আশাশুনি কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণ হয়েছে।
খুলনা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানায়, গত পাঁচ মাসে ২৬ লাখ ৮১ হাজার ডলার মূল্যের কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। এরমধ্যে জুন মাসে ২ লাখ ৬৯১ হাজার ডলার, জুলাই মাসে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ডলার, আগস্ট মাসে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বর মাসে ৯ লাখ ২৫ হাজার ডলার ও অক্টোবর মাসে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ডলার মূল্যের কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি হয়েছে।
স্থানীয় রপ্তানিকারক শেখ ওয়াহিদুজ্জামান লাবু জানান, মোংলা বন্দর সংলগ্ন দিগরাজ মোকাম থেকে প্রতিদিন রপ্তানির উদ্দেশ্যে ১০ টন কাঁকড়া ঢাকার নলভোগ আড়তে যায়। প্রতি কেজি কাঁকড়া প্রকারভেদে ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে চীন ও তাইওয়ানে সুন্দরবন অঞ্চলের কাঁকড়ার চাহিদা বেশি।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএস এম রাশেল জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলা, রামপাল ও মোংলা উপজেলায় গত অর্থ বছরে ৬০০ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হয়েছে। খামার ও স্থানীয় নদ-নদী থেকে এ সময় ২ হাজার ৬২৯ টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়েছে।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল জানান খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গত অর্থ বছরে ২৮ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ৯৮৯ টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিচুর রহমান রহমান জানান, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, দেবহাটা, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় গত অর্থ বছরে ৩০৭ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ২০০ টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়। চিংড়ির চেয়ে কাঁকড়া চাষ লাভজনক হওয়ায় এখানকার চাষিরা কাঁকড়াতে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করছে। স্থানীয় কাকশিয়ালী, কালিঞ্চি, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদ থেকে চাষিরা কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করেন।
তিনি বলেন, শ্যামনগরে কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ফরিদ নাইন এম্পিয়ার গ্রুপ ও ক্রিকেটার শাকিব আল হাসানের মালিকানায় শাকিব এগ্রোফার্ম নামে দু’টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
বাংলার গেজেট/এম এইচ