বাংলার গেজেট আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত মহাসাগরে মালদ্বীপের বুক চিরে জেগে ওঠেছে একটি নতুন শহর। শহরটির বেশির ভাগ অংশই এখন দৃশ্যমান। রাজধানী মালে থেকে শহরটিতে যেতে সময় লাগে ১০ মিনিট। শহরটির কাজ পুরোপুরি শেষ হলে অন্তত ২০ হাজার মানুষ এখানে বসবাস করতে পারবে। খবর সিএনএন-এর।
শহরটির নকশা করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের আকৃতিতে। শহরটিতে নানা রকম অবকাঠামোগত ব্যবস্থা থাকবে। মস্তিষ্ক আকৃতির প্রবালের নকশায় তৈরি শহরটিতে থাকবে বাড়ি, রেস্তোরাঁ, দোকান, স্কুলসহ মোট পাঁচ হাজার ভাসমান অবকাঠামো। শহরটিতে পানি ও বর্জ নিষ্কাশনের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরের বাসিন্দারা এসব ব্যবহার করবে।
২০২৪ সালে শহরটি খুলে দেয়া হবে। তবে এ মাসেই শহরটির প্রাথমিক অংশ উন্মোচন করা হবে। পুরো শহরের নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২৭ সালে। বিদেশি আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডাচ ডকল্যান্ডস ও মালদ্বীপ সরকারের যৌথ উদ্যোগে শহরটি নির্মিত হচ্ছে।
শহরটিকে নানা রং দিয়ে সাজানো হচ্ছে। দেখলে যেন মনে হবে রংধনুর সাত রং দিয়ে সাজানো। এর প্রত্যেকটি বাড়ি বিভিন্ন রং দিয়ে আবৃত। ফলে শহরটি দেখে মন ভরে ওঠবে বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের।
শহরটিতে বসবাসকারী মানুষ যাতায়াতের জন্য নৌকা ব্যবহার করবেন। শহরটি মূলত নৌকা চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শহরটির বালিভরা রাস্তাগুলো সাজানো হয়েছে মানুষের চলাচলের জন্য। এসব রাস্তায় বাসিন্দারা হাঁটতে এবং সাইকেল ও ইলেকট্রিক স্কুটার চালাতে পারবে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার মতো জলজ্যান্ত বর্তমান সমস্যার সমাধান হিসেবে শহরটি তৈরি করা হচ্ছে। এখানে খেয়ালি কোনো পরীক্ষা বা সুদূর ভবিষ্যতের উপযোগী নকশা তৈরি করা হয়নি। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ায় শহরটি যাতে ডুবে না যায় সেই দিকটি মাথায় রেখেই শহরটির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখে শহরটির নকশা করা হয়েছে। এক হাজার ১৯০টি নিচু দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। এর স্থলভাগের ৮০ শতাংশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক মিটারেরও কম ওপরে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বাড়বে। ফলে ডুবে যেতে পারে প্রায় পুরো মালদ্বীপ।
শহরটি ভাসমান অবস্থায় থাকবে। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে, শহরটিরও উচ্চতা বাড়বে। এটি পাঁচ লাখ মালদ্বীপবাসীকে নতুন আশা দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য শহরটির নকশাকারী প্রতিষ্ঠানের কোয়েন ওলথুইসের। তিনি বলেন, মালদ্বীপবাসী এখন জলবায়ু উদ্বাস্তু থেকে জলবায়ু উদ্ভাবক হয়ে ওঠবে।
মালদ্বীপের মূল শহরসহ রাজধানী মালের অবস্থা অনেকটা ঝুকিপূর্ণ। মালের জনসংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই সাথে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ার প্রভাব তো রয়েছেই। ফলে দ্রুতই দেশটির মানুষের বসবাসের জন্য নতুন স্থানের প্রয়োজন পড়বে। নতুন শহর নিয়ে অনেক আশাবাদী দেশটির মানুষ।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ