শেখ মাহতাব হোসেন :
যশোর ঝিকরগাছা গদখালীতে ফুল চাষ দেখতে আসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন। যশোরের গদখালীতে ফুল চাষ দেখতে আসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন। মন ভালো রাখতে হলে প্রকৃতির বিকল্প নেই। জীবনকে উপভোগ করতে অনেকেই ভ্রমণপিপাসু হয়ে থাকেন। আমাদের দেশের সব থেকে বড় ফুলের বাগান যশোরের গদখালীতে ভ্রমণ করলে মনে হবে, সৃষ্টিকর্তা মনে হয় নিজ হাতে তৈরি করে দিয়েছেন ভ্রমণপিপাসুদের জন্য।
ব্যস্ততম এই জীবনযাত্রার মাঝে হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দিতে, অপরূপ ফুলের সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে এবং তা থেকে শিক্ষালাভের জন্য ভ্রমণের অন্যতম স্থান হতে পারে ফুলের রাজ্য যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী।
হঠাৎ করেই গত বৃহস্পতিবার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদে গেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (এস এ পি পি ও) সন্জয় দেবনাথ বলেন মাহতাব ভাই মনে আছে যশোর ঝিকরগাছা গদখালি যেতে হবে ,আমি যেতে রাজি হলাম না। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেনের অনুরোধে রাজি হয়ে গেলাম,ঠিক আছে আমি যাবো যশোরের গদখালী। যে ভাবনা সেই কাজ। রওনা হলাম আজ শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটির সময় বাসে উঠে র ওনা হই। সঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান, সাংবাদিক জি এম আব্দুস সালাম, শেখ মাহতাব হোসেন, শেখ হেদায়েতুল্লাহ, আব্দুল লতিফ মোড়ল, এসএপিপিও সঞ্জয় দেবনাথ, আশুতোষ দাশ, ডুমুরিয়া উপজেলা আদর্শ কৃষক ইমনখান, কচু নিউটনসহ প্রায় ৩ ঘণ্টার যাত্রা শেষে আমরা পৌঁছালাম যশোরে গদখালী বাজারে ।
গদখালী বাজারে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ফুলের বেচাকেনা চলে।
ফুলের রাজ্য গদখালীর উদ্দেশে। যাত্রা পথেই শাঁ শাঁ করে চলতে থাকা বাস যখন ঝিকরগাছা বাজারের রাস্তা অতিক্রম করে এগিয়ে যায়, তখন থেকেই প্রকৃতপক্ষে অপরূপতার আভাস মেলে। বাসের ভেতর থেকেই তাকিয়ে দেখতে থাকলাম শতবর্ষী পুরোনো সেই বেনাপোল মহাসড়কের শিশুগাছগুলো। যাওয়ার পথের প্রকৃতির এই দৃশ্য কোনোভাবেই ভোলার নয়। চারদিকে অপরূপ দৃশ্য, সারি সারি শিশুগাছ তো আছেই। দেখে মন ভরে যায়।
দেশের ফুলের মোট চাহিদার বড় অংশের জোগান দেন ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার ফুলচাষিরা। দেশের ফুলের মোট চাহিদার বড় অংশের জোগান দেন ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার ফুলচাষিরা।
প্রায় এক ঘণ্টা পর স্বপ্নময় গদখালীতে। সেখান থেকে রওনা হলাম পানিসারা বাজারের উদ্দেশে। বড় রাস্তা পেরিয়ে গ্রামের পথে ঢোকার কিছু পরেই ফুলের রাজ্যের দেখা পেলাম। দেখেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। যেন বিখ্যাত কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি। পানিসারা বাজারের বেশ কিছুটা পথ আগেই নেমে পড়লাম। হেঁটে হেঁটে দেখছিলাম পুরো এলাকা। তখন মনে হচ্ছিল, কোথা থেকে কোথায় আসা। সব দিকে ফুল আর ফুল। পথে পথে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিউলাসসহ বিভিন্ন ফুলের মাঠের দেখা পেলাম। কোথাও খোলা মাঠে, আবার কোথাও ছাউনি দিয়ে সারি বেঁধে চলছে নানান রঙের ফুলের চাষ। পাশের এক গোলাপ বাগানে বেশ কয়েকজন কৃষককে ব্যস্ত দেখলাম ফুল কাটতে। স্তূপ করে রাখা এই ফুল ছড়িয়ে পড়বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দেশের ফুলের মোট চাহিদার একটা বড় অংশের জোগান দিয়ে থাকেন ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার এই ফুলচাষিরা। ১৯৮৪ সালের দিকে এখানে ফুলের চাষ শুরু হয়। পরে কয়েক দশকে ফুল চাষে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে কয়েক গুণ।
ফুলের মধ্য গোলাপের চাহিদা বেশি। ফুলের মধ্য গোলাপের চাহিদা বেশি।
বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক জড়িত ফুল চাষে। শুধু গদখালী বাজারেই প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ফুলের বেচাকেনা চলে। যা নীরবে দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও সচল করছে। এখন ঝিকরগাছা, শার্শা ছাড়াও যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুরেও বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেটে, বিদেশি সিনেমায় ইউরোপের ফুল বাগানের ছবি দেখেছি। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এ রকম ফুলের বাগান আমাদের দেশেও আছে, তা না দেখলে কেউ বুঝতে পারবেন না। এ যেন পৃথিবীর মাঝে এক স্বর্গ উদ্যান। বিমোহিত হয়েই কাটল পুরোটা বিকেল। ফুল কিনে ফেরার পথ ধরলাম।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ