প্রতিকী ছবি

বাংলার গেজেট প্রতিবেদক : আষাঢ়ের প্রথম দিনেই খুলনায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আকাশে মেঘ ভাসছে। দিনের বিভিন্ন সময় মেঘের গর্জন শোনা গেছে। বিকেল বৃষ্টি ঝরেছে। রূপসা নদীতে বজ্রপাতে একটি যাত্রীবাহী ট্রলারের কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন। ওই ট্রলারের বজ্রদগ্ধ চালক নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আজ বুধবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে রূপসা খেঁয়াঘাট থেকে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার অপর পাড়ের ঘাটে আসছিল। মাঝ নদীতে ট্রলারটি আসলেই হঠাৎ বজ্রপাতে চালক মতি শিকদার (৪৫) দগ্ধ হয়ে পানিতে পড়ে যান। ঘাট থেকে অন্য দু’-একটি ট্রলার নিয়ে চালকেরা ছুটে এসে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটিকে উদ্ধার করেন। ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দগ্ধ যাত্রী রাকিব, খোকন এবং বাপ্পিসহ ছয় জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাৎক্ষনিকভাবে দগ্ধ অন্য তিন জনের নাম জানা যায়নি।
রূপসা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুল মুন্নাফ বলেন, নিখোঁজ ট্রলার চালক মতি শিকদার চর রূপসা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত: সোলায়মান শিকদারের ছেলে। নৌ পুলিশ, রূপসা বাস স্ট্যা- ফাঁড়ির পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরা তাকে উদ্ধারের জন্য রূপসা ও ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন। রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তার সন্ধান মেলেনি।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, মাঝ নদীতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা ক্ষীন। নদী সংলগ্ন যে কোনো স্থানে বজ্রপাত হতে পারে। যে এলাকায় বজ্রপাত হয়, তার এক কিলোমিটারের মধ্যে যে কোনো স্থানে ক্ষয়-ক্ষতি ঘটতে পারে।
দুপুর এক টার পর থেকে থেমে-থেমে মেঘ গর্জন করছিল। সূর্য মেঘে ঢাঁকা পড়ায় রোদ উবে গিয়েছিল। বার-বারই বৃষ্টি ঝরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বর্ষা নামছিল না। ভ্যাপসা গরম অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। দুপুর সাড়ে ৩ টার পরে শুরু হয় বর্ষণ। খুলনা আবহাওয়া অফিস কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেন। এর ধরণ ছিল-হালকা থেকে মাঝারি মানের।
সূত্রমতে, বুধবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেঘলা আকাশ, বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ বেশি এবং তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তি থাকার কারণে অসহ্য গরম অনুভূত হয়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় আরও দু’-তিন দিন মেঘময় আকাশ এবং হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গতকালের মতই থাকতে পারে।
বাংলার গেজেট/এম এইচ