মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিক : হযরত আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল (সা:) বলেছেন “তোমরা লাইলাতুল কদরকে রমজান মাসের শেষ দশকের বে-জোড় রাত সমূহে অন্বেষণ করা”। অর্থাৎ রমজান মাসের শেষ দশক শুরু হয় ২১শে রমজান থেকে বে-জোড় হলো ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ এই পাঁচ রাত, অন্যান্য ইবাদত যেমন নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জের দিন তারিখ ও সময় নির্ধারিত কিন্তু লাইলাতুল কদর নির্ধারিত নয়। বরং পাঁচ রাতের যে কোনো ১ রাতে হবে। মূলত: এই ইবাদত পাঁচ রাতের মধ্যে নিহিত থাকার কারন সম্পর্কে হযরত উবাদা ইবনে সামেত (রা:) বলেন, একদা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আমাদের খবর দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসলেন, তখন ২ জন সাহাবা একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক বা ঝগড়া করছিলেন (বর্নিত আছে সাহাবা ২ জন হলেন, হযরত কাব বিন মালেক (রা:)) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবী হুদ্দ (রা:) তখন মহানবী (সা:) বলেন, আমি তোমাদেরকে “লাইলাতুল কদর” সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার জন্য আসছিলাম কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তি ঝগড়ায় লিপ্ত থাকার কারনে (আমি ঐ দৃশ্য দেখে) আমাকে “লাইলাতুল কদর” এর সঠিক তারিখটি ভূলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সম্ভবত: ইহা তোমাদের জন্য কল্যানকর হয়েছে। তোমরা জেনে রাখ যে, লাইলাতুল কদর হলো ২৫,২৭,২৯ সে রাতে (বুখারী শরীফে হাদিসটি উল্লেখ আছে)
মহানবী (সা:) এর উল্লেখিত হাদিসের শেষে বলেছেন যে “লাইলাতুল কদর” এর নির্দিষ্ট রাত আমি ভূলে যাওয়ায় তোমাদের জন্য কল্যানকর হয়েছে। এ কথার অর্থ এই যে, যদি “লাইলুতুল কদর” এর রাত আমি নির্দিষ্ট করে জানতাম তাহলে তোমরা শুধু মাত্র সে একরাাত ইবাদত করে হাজার মাসের ও অধিক ইবাদাত করার সাওয়াব লাভ করতে, এখন নির্দিষ্ট হওয়া ৫টি বে-জোড় রাতে ইবাদত করলে তার মধ্যে ১টি লাইলাতুল কদর তো থাকবেই এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাসের মত একটি ফজিলাত পূর্ণ মাসে আরও অতিরিক্ত ৪ রাত ইবাদত করার সাওয়াব পাবে কাজেই ইহা তোমাদের জন্য কল্যান কর হয়েছে।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে মাহে রমজানের শেষ দশকের বে-জোড় রাত সমূহে ইবাদত করে লাইলাতুল কদরের সাওয়াব অর্জনের তাওফীক দান করুন। (আমিন!!!)
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, আহসান উল্লাহ কলেজ, খুলনা।