সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুপক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল আরও একজনের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুজনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালীতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলেই আমির হোসেন নামে এক যুবক নিহত হন এবং পরে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথেই আব্দুল কাদেরের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ফ্যান সংস্কারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) টেংরাখালীতে রেজাউলের দোকানে ফ্যান সংস্কার করতে গিয়ে আব্দুল আজিজের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন আব্দুল কাদের।
এ ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংগঠনিক আলোচনার সময় বিএনপি সমর্থিত ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লালটু ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আজগার আলি বুলুর নেতৃত্বে শতাধিক লোক হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গেলে মো. আমির হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কাদেরকে মারধর করে তারা। এতে ঘটনাস্থলেই আমির হোসেন নিহত হন।
এ সময় ইব্রাহিম গাজী, মোহাম্মদ হান্নান, ইসমাইল, আক্তার ও ইমাম গাজী, আবু বক্কর সিদ্দিক ও আলমগীর কয়ালকেও মারপিট করে গুরুতর জখম করা হয়। তাদের উদ্ধার করে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শিরুজ্জামান জানান, ছাকাত শেখের ছেলে আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেলে পাঠানো হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাতক্ষীরা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।
ঢাকায় নেয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয় বলে বলে জানান সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বারী।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ বলেন, সংঘর্ষের খবর শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলেও জানান তিনি।
বাংলার গেজেট/ এম এইচ