যশোর প্রতিনিধি : তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠী আইনের সংস্পর্শে আসতে আগ্রহী নয়। তারা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও থানা-আদালত এড়িয়ে চলেন। তাদের ধারণা থানায় গেলে ভাল ব্যবহার করা হবে না। তারা আইনী সহায়তাও পাবে না। আবার আদালতে গিয়েও সমান ব্যবহার পানন। এটাই তাদের আইনী সহায়তা ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে বড় প্রতিবন্ধকতা। সংবিধানে সব নাগরিকে সমান অধিকার রয়েছে। হিজড়া জনগোষ্ঠীকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেই সেবা দিতে হবে। আইনশৃংখলা বাহিনী ও আইনজীবীদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আজ বুধবার (০৮ জুন) বিকেলে যশোরে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর আইনী সহায়তা ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে অর্পণ মানব কল্যাণ সংস্থার আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর এম ইদ্রিস আলী। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হুসাইন শওকত ও বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর ‘ক’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উলাসী সৃজনী সংঘের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মনি, যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র রোকেয়া পারভিন ডলি, কাউন্সিলর রাশেদ আব্বাস রাজ ও নাসিমা আক্তার জলি, এপিপি অ্যাড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন, দৈনিক সমাজের কথার বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট তাহমিদ আকাশ, এনজিও কর্মী শাহজাহান নান্নু, শামসুন্নাহার পান্না, ব্লাস্ট্রের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌসী সুচি, হিজড়া গুরু তাপসী দে চাঁদনী, ভাবনা হিজড়া, কোহেলী হিজড়া। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্লাস্ট যশোর ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়ুন কবীর। সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্পণ মানব কল্যাণ সংস্থার সিবিও কো-অর্ডিনেটর রুবাইদুল হক জোয়ারদার।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, যশোর জেলার হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা নবজাতক নাচিয়ে আনন্দ দিয়ে প্রাপ্ত বখশিসে জীবিকা নির্বাহী করেন। অন্য জেলার হিজড়াদের চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও সেটি এই জেলায় নেই। তাদের জীবন দক্ষতার প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
বাংলার গেজেট/এম এইচ