বাংলার গেজেট প্রতিবেদক : ৪৮ বছর পর আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাজশাহীর জয়নুদ্দিন সরকারের মামলা। যদিও আপিলকারী জয়নুদ্দিন বেঁচে আছেন না মারা গেছেন সে তথ্যই জানা নেই আইনজীবীর। বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকির দ্বৈত বেঞ্চে চলছে দুদকের ব্যুরো আমলের এসব পুরোনো মামলা। বহু বছরের অনেক মামলার নথিপত্রও সঠিকভাবে নেই। মারা গেছেন অনেক আসামিও।
জয়নুদ্দিন সরকার তখনকার সময় রাজশাহীর সারদা ইউনিয়সের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৬৫ সালে ঝিকরি মডেল স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের নামে ১ হাজার ৭০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ওই মামলার রায়ে রাজশাহীর বিশেষ জজ আদালত তাকে ৪ মাসের জেল ও দুই হাজার টাকা জরিমানা করে।
রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালে জয়নুদ্দিন উচ্চ আদালতে আপিল করেন। ৪৮ বছর পর সেই আপিল নিষ্পত্তির জন্য ২০২২ সালে কার্যতালিকায় আসে।
দুদকের আইনজীবী আসিফ হাসান বলেন, “কোন একটা কনস্ট্রাশনের ১০ হাজার টাকার ফান্ড ছিল, সেখানে তসরুপ হয়েছে ১ হাজার ৭০ টাকা। এই মামলার রায় হয়েছিল ৪ মাসের জেল ও দুই হাজার টাকা জরিমানা।”
এত বছরের পুরনো মামলার আসামি বেঁচে আছেন কিনা তথ্য নেই দুদকের কাছে। নেই আপিলকারীদের পক্ষে কোন আইনজীবীও।
দুদকের আইনজীবী বলেন, “যুগ্ম জেলা জজের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল, এখন পর্যন্ত জানা যায়নি সে বেঁচে আছে না মারা গেছেন। আমরা যখন মামলাটা ধরেছি চেষ্টা করবো বের করে আনতে।”
তবে বহু বছরের পুরানো মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, এটাই আশার কথা বললেন দুদকের আইনজীবী।
আসিফ হাসান বলেন, “বেশির ভাগেরই পেপারস বুক নেই। আর এনসিআর পড়ে-বুঝতে অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই পুরাতন মামলাগুলোতে অ্যান্টি করাপশন কমিশনকে পার্টি করা ছিল না। আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কোর্টে আনার চেষ্টা করছি নিষ্পত্তির জন্য। নিজেরা পার্টি হওয়ার দরখাস্ত দিচ্ছি।”
৫৬ বছর আগের দুর্নীতির মামলাগুলো শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে উচ্চ আদালত। ১৯৭৩ থেকে বেশ কিছু পুরনো মামলা কার্যতালিকায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। সূত্র : একুশে টিভি
বাংলার গেজেট/এম এইচ